২০২৫ সালে কলেজে দরখাস্ত লেখার নিয়ম
- আপডেট সময় : ০৪:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
কলেজে দরখাস্ত লেখার নিয়ম জানা থাকলে যেকোনো অফিসিয়াল কাজ সহজে ও সম্মানের সাথে করা যায়। সঠিক প্রাপক, পরিষ্কার বিষয়, সংক্ষিপ্ত কারণ, ভদ্র ভাষা, আর পূর্ণ পরিচয়সহ লিখলেই কলেজে দরখাস্ত ঠিকমতো গ্রহণযোগ্য হয়। আপনি চাইলে এটা পড়েই যেকোনো দরখাস্ত নিজের হাতে লিখতে পারবেন।
কলেজে দরখাস্ত লেখার নিয়ম
কলেজে দরখাস্ত মানে হলো কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে নিজের প্রয়োজন বা সমস্যার কথা জানিয়ে আবেদন করা। এটা হতে পারে ছুটি চাওয়া, ফি জমার সময় বাড়ানো, সার্টিফিকেট তোলা, বা অন্য কোনো অনুমতি নেওয়ার জন্য। দরখাস্তের মূল শক্তি হলো এর পরিষ্কার কাঠামো আর ভদ্র ভাষা। নিচে আমি স্টেপ বাই স্টেপ দেখাচ্ছি কীভাবে দরখাস্ত লিখবেন।
দরখাস্ত ও আবেদনপত্রের পার্থক্য কী
অনেকেই জিজ্ঞেস করে, “দরখাস্ত” আর “আবেদনপত্র” কি একই জিনিস। কাজের দিক থেকে দুটোই প্রায় একই। তবে “দরখাস্ত” শব্দটি বেশি ব্যবহৃত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে। আর “আবেদনপত্র” সাধারণত একটু বেশি ফরমাল বা অফিসিয়াল আবেদন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ হিসেবে বলি। আপনি যদি ছুটি চান, সাধারণত লিখবেন “দরখাস্ত”। আর বৃত্তি বা ভর্তি সংক্রান্ত বড় আবেদন হলে লিখবেন “আবেদনপত্র”।
দরখাস্তের সঠিক ফরম্যাট ২০২৫
দরখাস্তের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো আছে। এই কাঠামো মানলেই দরখাস্ত সুন্দর, পরিষ্কার এবং গ্রহণযোগ্য হয়।
১) প্রাপক অংশ
প্রথমে লিখবেন, যাকে দরখাস্ত দিচ্ছেন তার পদবি। তারপর কলেজের নাম ও ঠিকানা।
উদাহরণ।
প্রতি,
অধ্যক্ষ,
XYZ সরকারি কলেজ, ঢাকা।
২) বিষয় (Subject)
এখানে এক লাইনে দরখাস্তের উদ্দেশ্য লিখবেন। বিষয় যত স্পষ্ট হবে, তত দ্রুত কাজ হবে।
উদাহরণ। বিষয়: তিন দিনের ছুটির জন্য দরখাস্ত।
৩) সম্বোধন
সাধারণত লিখবেন “জনাব,” বা “মহোদয়,”। এটা দরখাস্তকে ভদ্র ও প্রাতিষ্ঠানিক করে।
৪) মূল বক্তব্য (Body)
এই অংশে আপনার পরিচয় ও কারণ লিখবেন। কারণ সংক্ষিপ্ত ও সত্য হতে হবে। অতিরিক্ত গল্প বা আবেগ ঢোকানোর দরকার নেই।
উদাহরণ। আমি আপনার কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। আমার রোল নম্বর ১২৩৪ এবং সেশন ২০২৪-২৫। জ্বরের কারণে আমি আগামী ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারব না।
৫) প্রার্থনা অংশ
এখানে আপনি কী চান সেটা সরাসরি লিখবেন। আপনার অনুরোধ এক লাইনে পরিষ্কারভাবে বলুন।
উদাহরণ। অতএব, আমাকে উল্লিখিত তিন দিনের ছুটি প্রদান করলে কৃতজ্ঞ থাকব।
৬) সমাপ্তি ও স্বাক্ষর
শেষে ধন্যবাদ দিয়ে নিজের তথ্য লিখবেন।
উদাহরণ।
বিনীত নিবেদক,
আপনার অনুগত শিক্ষার্থী,
নাম: ______
রোল: ______
বিভাগ: ______
সেশন: ______
মোবাইল: ______
তারিখ: ______
দরখাস্ত লেখার ভাষা ও ভঙ্গি
দরখাস্তে ভাষা সবসময় বিনীত হওয়া উচিত। রাগ, অভিযোগের টোন, বা কঠিন শব্দ ব্যবহার করবেন না। আবেদন যেন পড়লেই বোঝা যায়, এমন সাধারণ বাংলায় লিখুন। বাংলা বানান ঠিক রাখা খুব জরুরি।
আমি সাধারণত দরখাস্ত লেখার পর একবার জোরে পড়ে দেখি। পড়তে যদি “ভদ্র” না শোনায়, তাহলে বাক্য বদলে দিই। আপনিও এমন করলে ভুল কমবে।
কলেজে ছুটি চাওয়ার দরখাস্ত কীভাবে লিখবেন
এটা কলেজে সবচেয়ে বেশি লেখা দরখাস্ত। নিয়ম একই, শুধু কারণটা আলাদা হবে। কারণ হতে পারে অসুস্থতা, পারিবারিক কাজ, বা জরুরি কোনো অনুষ্ঠান। কিন্তু কারণ বাস্তব হতে হবে। ছুটির তারিখ স্পষ্টভাবে লিখবেন।
উদাহরণ। “আমি আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পারিবারিক অনুষ্ঠানের কারণে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকব।”
ফি মওকুফ বা সময় বাড়ানোর দরখাস্ত
অনেকে ফি দিতে দেরি করে ফেলে, পরে চিন্তায় পড়ে যায়। এক্ষেত্রে দরখাস্তে দুইটা জিনিস জরুরি। এক, দেরির কারণ। দুই, আপনি কবে ফি দিতে পারবেন, সেই নির্দিষ্ট সময়।
উদাহরণ। “আর্থিক সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে ফি জমা দিতে পারিনি। আমি আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ ফি জমা দেব।” এটা পড়ে অফিস বুঝতে পারে আপনি সিরিয়াস।
সার্টিফিকেট বা ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের দরখাস্ত
এই দরখাস্তে কারণের চেয়ে তথ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কোন সার্টিফিকেট চান, সেটা পরিষ্কারভাবে লিখবেন। রোল, রেজিস্ট্রেশন, পাসের বছর, বিভাগ এসব ঠিকঠাক দিন।
উদাহরণ। “আমি এইচএসসি ২০২৪ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার মূল সনদপত্র উত্তোলনের অনুমতি প্রার্থনা করছি।”
অনলাইনে বা ইমেইলে দরখাস্ত দেওয়ার নিয়ম ২০২৫
২০২৫ সালে অনেক কলেজ ইমেইলে দরখাস্ত গ্রহণ করছে। সেক্ষেত্রে সাবজেক্ট লাইনে বিষয় লিখুন। পিডিএফ বা ছবি পরিষ্কারভাবে অ্যাটাচ করুন। ইমেইল বডিতে সংক্ষিপ্ত দরখাস্ত লিখে দিন। প্রয়োজনে “মেডিকেল সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হলো” এমন লাইন যোগ করুন। এতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
দরখাস্ত লেখার সাধারণ ভুলগুলো
ভুলগুলো আগে জানলে আপনি সহজেই এড়াতে পারবেন। প্রথম ভুল হলো প্রাপক ভুল লেখা। অনেকেই “অধ্যক্ষ স্যার” লিখে দেয়, যা ফরমাল না। সঠিক হলো “অধ্যক্ষ” বা “প্রিন্সিপাল”। দ্বিতীয় ভুল হলো বিষয় না লেখা। বিষয় না থাকলে দরখাস্ত এলোমেলো লাগে। তৃতীয় ভুল হলো বেশি বড় করে লেখা। দরখাস্তে বড় বক্তৃতা দেওয়া লাগে না।
চতুর্থ ভুল হলো পরিচয় অসম্পূর্ণ রাখা। রোল, বিভাগ, সেশন না দিলে ফাইল খুঁজতে সময় লাগে।
দ্রুত চেকলিস্ট
দরখাস্ত জমা দেওয়ার আগে এই লিস্ট মিলিয়ে নিন। প্রাপক ঠিক আছে কি না দেখুন। বিষয় এক লাইনে পরিষ্কার হয়েছে কি না দেখুন। কারণ সত্যি এবং সংক্ষিপ্ত হয়েছে কি না দেখুন। তারিখ ও সময় ঠিক আছে কি না দেখুন। রোল, বিভাগ, সেশন লিখেছেন কি না দেখুন। বানান ভুল আছে কি না দেখুন।
আমার সর্বশেষ কথা
কলেজে দরখাস্ত লেখার নিয়ম খুব কঠিন কিছু না। আপনি যদি কাঠামো ঠিক রাখেন, ভদ্র ভাষা ব্যবহার করেন, আর তথ্য সম্পূর্ণ দেন, দরখাস্ত সহজেই গ্রহণ হবে। আমি চাই আপনি আজ থেকেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে দরখাস্ত লিখুন। কারণ দরখাস্ত লেখা মানে শুধু কাগজে লেখা না, এটা আপনার শিষ্টাচার আর দায়িত্ববোধ প্রকাশ করারও একটা সুন্দর উপায়।













