বর্তমানে রিজাইন লেটার কিভাবে লিখতে হয় বিস্তারিত জেনে নেই
- আপডেট সময় : ০৬:২০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
বর্তমানে যে কেউ চাকরি পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু অনেকেই জানেন না-রিজাইন লেটার কিভাবে লিখতে হয়। ভদ্র ভাষায়, কারণ সংক্ষেপে উল্লেখ করে, নোটিশ পিরিয়ড মানার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, এবং কৃতজ্ঞতার টোন বজায় রেখে একটি রিজাইন লেটার লিখতে হয়। একজন সহকর্মী বা বন্ধুকে যেমন সহজভাবে বুঝিয়ে দিই, ঠিক সেভাবেই আজ আপনাকে পুরো বিষয়টি সাজিয়ে বুঝিয়ে দেব। নিজের অভিজ্ঞতা, বাস্তব উদাহরণ ও বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি মিলিয়ে এই গাইডটি তৈরি করেছি-যাতে আপনার রিজাইন করা সহজ, পেশাদার ও স্ট্রেস–ফ্রি হয়।
রিজাইন লেটার কিভাবে লিখতে হয় বিস্তারিত জানুন
আমার কর্মজীবনের প্রথম দিকে আমি নিজেও জানতাম না কীভাবে রিজাইন লেটার লিখতে হয়। প্রথম চাকরি ছাড়ার সময় বসের সামনে দাঁড়িয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল! ভুল শব্দ ব্যবহার করলে সম্পর্ক নষ্ট হবে এই ভয়ও ছিল। কিন্তু পরে বুঝেছি, বিষয়টি খুবই সহজ-শুধু কিছু নিয়ম মেনে লিখলেই রিজাইন লেটার ১০০% পেশাদার হয়ে যায়।
একটি ভালো রিজাইন লেটারের মূল তিনটি বৈশিষ্ট্য থাকে:
এক—সংক্ষিপ্ত।
দুই—ভদ্র।
তিন—পজিটিভ টোন।
নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি আপনাকে বাস্তব উদাহরণসহ বুঝিয়ে দিচ্ছি।
রিজাইন লেটার লেখার আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে
প্রথমবার রিজাইন করতে গেলে অনেকেই নার্ভাস হন।আমিও হয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকটি বিষয় আগে মাথায় রাখলে পুরো প্রক্রিয়া সহজ হয়ে যায়।
এক—নোটিশ পিরিয়ড সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
দুই—কোনো আবেগ বা রাগ নিয়ে রিজাইন করবেন না।
তিন—আগামী চাকরির বিষয়টি নিশ্চিত করে নিন।
চার—অফিসের নিয়ম মেনে রিজাইন জমা দিন।
এগুলো মানলে আপনার এবং কোম্পানির সম্পর্ক ভালো থাকবে—যা ভবিষ্যতে রেফারেন্স নেওয়ার সময় কাজে লাগবে।
রিজাইন লেটারের সঠিক ফরম্যাট: কোন অংশে কী লিখবেন
এটি আপনার রিজাইন লেটারের “ব্লুপ্রিন্ট”। আমি নিজে যখন HR হিসেবে কাজ করেছি, দেখেছি অনেকেই কাঠামো না জেনে ভুল করেন। নিচের এই কাঠামো আপনি কপি করে নিজের মতো সাজিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
১. হেডার
আপনার নাম
পদবি
ইমেইল / ফোন নম্বর
তারিখ
২. অ্যাড্রেসি
HR বা সুপারভাইজারের নাম
পদবি
কোম্পানির নাম
৩. সাবজেক্ট
Subject: Resignation Letter for the Position of [আপনার পদ]
4. ওপেনিং লাইন
“আমি আপনাদের জানানোর জন্য এই রিজাইন লেটার জমা দিচ্ছি যে, আমি [তারিখ] থেকে আমার পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাই।”
5. বডি
সংক্ষিপ্ত কারণ লিখুন।
কোম্পানির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
হ্যান্ডওভার সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিন।
6. শেষ অংশ
“আপনাদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার আশা রাখছি।”
7. সিগনেচার
শুভেচ্ছান্তে,
আপনার নাম
পেশাদার বাংলা রিজাইন লেটারের উদাহরণ
নীচে একটি সহজ, ভদ্র ও প্রফেশনাল বাংলা রিজাইন লেটার দেখুন:
তারিখ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৫
নাম: শামীম হোসেন
পদবি: এক্সিকিউটিভ অফিসার
বরাবর
এইচআর ম্যানেজার
ABC Corporation
Subject: Resignation Letter for the Position of Executive Officer
মাননীয়,
আমি আপনাদের জানাতে চাই যে আমি ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ থেকে আমার বর্তমান পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাই। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার উন্নয়নের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
গত দুই বছরে ABC Corporation–এ কাজ করে আমি অনেক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করেছি। আপনাদের সহযোগিতা সবসময় আমার জন্য মূল্যবান ছিল।
নোটিশ পিরিয়ডের সময় আমি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে হস্তান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
শুভেচ্ছান্তে,
শামীম হোসেন
ইমেইলে রিজাইন লেটার পাঠানোর নিয়ম
বর্তমানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ইমেইল রিজাইন গ্রহণ করে।
এক্ষেত্রে সাবজেক্ট হবে খুব স্পষ্ট:
Subject: Resignation – [Your Name, Position]
ইমেইলে ভুল বানান এড়িয়ে চলুন। অফিসিয়াল ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠান। প্রয়োজনে একই টেক্সট PDF করে সংযুক্ত করতে পারেন। একবার আমি একটি স্টার্টআপে কাজ করেছিলাম যেখানে একজন সহকর্মী ফেসবুক মেসেজে রিজাইন পাঠিয়েছিলেন।
ফলাফল? রেজুমে চেকিংয়ের সময় সেইচিট মিস হয়ে গিয়েছিল, পরবর্তীতে ডকুমেন্টেশনে সমস্যা দেখা দেয়। সবসময় অফিসিয়াল মাধ্যম ব্যবহার করুন।
রিজাইন করার সময় সাধারণ যে ভুলগুলো মানুষ করে
এক—অতিরিক্ত আবেগে চিঠি লেখা।
দুই—বসকে দোষারোপ করা।
তিন—সেদিনই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।
চার—সোশ্যাল মিডিয়ায় রিজাইন নিয়ে পোস্ট করা।
পাঁচ—অপেশাদার ভাষা ব্যবহার।
একবার আমি দেখেছি একজন কর্মী রাগের মাথায় লিখেছেন, “আমি আর একদিনও এই অফিসে থাকতে চাই না।” এই ধরনের লাইন ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিভিন্ন সেক্টরের জন্য বিভিন্ন টোনে রিজাইন লেটার
কর্পোরেট অফিসের রিজাইন লেটার
ভদ্র, সংক্ষিপ্ত ও নীতিমালা অনুসরণ করে লিখতে হয়।
আইটি/সফটওয়্যার সেক্টর
হ্যান্ডওভার ডকুমেন্ট ও অ্যাক্সেস ট্রান্সফারের প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা ভালো।
শিক্ষা সেক্টর
শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নোটিশ পিরিয়ড মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
এনজিও সেক্টর
বিভিন্ন প্রজেক্টের নাম উল্লেখ করতে পারেন, তবে খুব বিস্তারিত নয়।
রিজাইন দেওয়ার পর যেসব ডকুমেন্ট নিতে ভুলবেন না
এক—Experience Certificate
দুই—Relieving Letter
তিন—NOC
চার—Clearance Form
চাকরি পরিবর্তনের সময় এসব ডকুমেন্ট খুব কাজে লাগে।
আমার সর্বশেষ কথা
চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হলেও, রিজাইন লেটার আপনার পেশাদার পরিচয়ের একটি বড় অংশ। আমি নিজে চাকরি পরিবর্তন করার সময় সবসময় একটি নিয়ম মানি-ভদ্রতা ও সম্মান সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি করে তোলে। আপনি যদি এখানে দেওয়া ধাপগুলো অনুসরণ করেন, তবে আপনার রিজাইন প্রক্রিয়া হবে ঝামেলা–মুক্ত, পেশাদার ও ভবিষ্যত–উপযোগী।
রিজাইন লেটার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর
রিজাইন লেটারে কী কী অবশ্যই লিখতে হয়?
পদবি, তারিখ, রিজাইন করার ইচ্ছা, নোটিশ পিরিয়ড, কৃতজ্ঞতা।
রিজাইন লেটার বাংলায় লেখা যাবে?
হ্যাঁ, যদি প্রতিষ্ঠান বাংলায় গ্রহণ করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইংরেজি পছন্দনীয় হলেও বাংলা রিজাইন সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।
নোটিশ পিরিয়ড না মেনে রিজাইন করা যায়?
কোম্পানির নীতি অনুযায়ী নির্ভর করে। পেশাদারভাবে নোটিশ মানা হলো সেরা উপায়।
রিজাইন দেওয়ার পর সম্পর্ক কি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ?
অবশ্যই। ভবিষ্যতে রেফারেন্স বা নেটওয়ার্কিং-এর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্কুল পর্যায় ২ এর লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস। আরো বিস্তারিত জানতে এইখানে যান।









