হাই প্রেসার রোগীর খাবার তালিকা ও কার্যকর ডায়েট গাইড
- আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫ ৭২ বার পড়া হয়েছে
হাই প্রেসার রোগীর খাবার তালিকা এমন একটি ডায়েট পরিকল্পনা যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ও হৃদ্স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখে। সংক্ষেপে বললে, কম লবণ, বেশি শাকসবজি, ফল, ফাইবার ও পর্যাপ্ত পানি—এই পাঁচটি মূল নিয়মই হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণের সহজ পথ।
পরিচিতি: কেন খাবারের প্রতি সচেতনতা দরকার
আমার এক আত্মীয়, আব্দুল কাদের সাহেব, দীর্ঘদিন ধরে হাই প্রেসারে ভুগছেন। ওষুধ খেলেও প্রেসার ওঠানামা করত। একদিন চিকিৎসকের পরামর্শে খাবারের অভ্যাস বদলে দিলেন—লবণ কমালেন, বেশি ফল খেলেন, আর মাত্র এক মাসেই পার্থক্য টের পেলেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই আমি বুঝেছি, সঠিক খাবারই হাই প্রেসারের ওষুধের অর্ধেক কাজ করে।
হাই প্রেসার রোগীর খাবার তালিকা
হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ তখনই নিয়ন্ত্রণে আসে, যখন আমরা প্রতিদিনের খাবারে সোডিয়াম কমিয়ে, পটাশিয়াম বাড়াই।
নিচে সহজভাবে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা দেওয়া হলো—যা বাংলাদেশি ঘরানার খাবার অনুযায়ী সাজানো।
সকালের নাশতা
- ২ টুকরো আটা রুটি বা ওটস
- ১টা সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ বা ডাল
- ১ বাটি ফল (যেমন—পেয়ারা, আপেল, কলা অল্প পরিমাণে)
- ১ কাপ লবণবিহীন চা বা গ্রিন টি
টিপস: সকালে প্রচুর পানি পান করুন, এতে রক্তচাপ স্থিতিশীল থাকে।
দুপুরের খাবার
- ১ কাপ ব্রাউন রাইস বা লাল চাল
- মুরগির বুকের মাংস বা রুই/তেলাপিয়া মাছ (গ্রিল/সেদ্ধ/কম তেলে ভাজা)
- মিশ্র সবজি—লাউ, শাক, গাজর, ফুলকপি
- ১ বাটি লো-ফ্যাট দই
উদাহরণ: অনেকেই মনে করেন দইয়ে চর্বি বেশি—আসলে লো-ফ্যাট দই রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
বিকেলের নাশতা
- এক মুঠো বাদাম (কাঠবাদাম/আখরোট)
- ১ বাটি ফলের সালাদ
- পানি বা চিনি ছাড়া ডাবের পানি
ব্যক্তিগত টিপ: আমি নিজে বিকেলে হালকা ফল খেয়ে দেখি, চিপস বা বিস্কুটের লোভ অনেক কমে যায়।
রাতের খাবার
- ১-২টি আটা রুটি
- ডাল বা সয়াচাংক কারি
- সিদ্ধ সবজি বা হালকা স্যুপ
নোট: রাতে অতিরিক্ত ভাত না খাওয়াই ভালো, কারণ ঘুমের আগে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট প্রেসার বাড়ায়।
কী খাবেন আর কী খাবেন না
উপকারী খাবার
- শাকসবজি: পালং, লাউ, কুমড়া, টমেটো
- ফল: কলা, কমলা, আপেল, পেয়ারা
- দুগ্ধজাত: লো-ফ্যাট দুধ ও দই
- প্রোটিন: ডিম, মাছ, সয়াবিন, ডাল
- শস্য: লাল চাল, আটা রুটি, ওটস
এড়িয়ে চলার খাবার
- আচার, প্যাকেট স্যুপ, নুডলস (উচ্চ সোডিয়াম)
- অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার
- প্রক্রিয়াজাত মাংস (সসেজ, স্যালামি ইত্যাদি)
- সফট ড্রিঙ্ক, মিষ্টি পানীয়
উদাহরণ: এক কাপ ইনস্ট্যান্ট নুডলসেই দিনে প্রয়োজনীয় সোডিয়ামের অর্ধেক থাকে!
ডায়েট: বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
বিশ্বব্যাপী DASH ডায়েট (Dietary Approaches to Stop Hypertension) হাই প্রেসার রোগীদের জন্য স্বীকৃত পদ্ধতি।
এতে জোর দেওয়া হয়:
- কম লবণ,
- বেশি ফল ও শাকসবজি,
- কম ফ্যাটযুক্ত দুধ ও প্রোটিন।
বাংলাদেশি পরিবেশে এটিকে মানিয়ে নেওয়া যায়। যেমন, ভর্তায় লবণ কমিয়ে লেবুর রস ব্যবহার করা, অথবা দই ও শাকসবজি যোগ করা।
জীবনধারা ও অভ্যাসের ভূমিকা
শুধু খাবার নয়, অভ্যাসও বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটুন। স্ট্রেস কমান, পর্যাপ্ত ঘুমান। অতিরিক্ত কফি থেকে দূরে থাকুন। আমার অভিজ্ঞতা: সকালে ২০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার পর আমার প্রেসার অনেক স্থিতিশীল হয়েছে—এটা সত্যিই কাজ করে।
কেনাকাটার ছোট গাইড
- বাজারে যাওয়ার আগে একটি তালিকা করুন: সবজি, ফল, আটা, বাদাম, লো-ফ্যাট দুধ।
- প্যাকেটজাত খাবারে “সোডিয়াম per 100g” দেখে কিনুন।
- সপ্তাহে একবার খাবার প্রস্তুতি করে রাখলে নিয়ন্ত্রণে থাকা সহজ।
আমার সর্বশেষ কথা
হাই প্রেসার একদিনে আসে না ঠিক তেমনি একদিনে যায়ও না। তবে নিয়মিত ও পরিমিত খাবারই হতে পারে সবচেয়ে বড় ওষুধ।
হাই প্রেসার রোগীর খাবার তালিকা মেনে চললে, আপনি দীর্ঘদিন সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে পারবেন। তাই আজ থেকেই ছোট পরিবর্তনে বড় ফল আনুন—নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
হাই প্রেসার রোগী দিনে কত লবণ খাবেন?
প্রতিদিন মোট ১ চা চামচের কম (প্রায় ৫ গ্রাম) লবণই যথেষ্ট।
কলা বা ডাবের পানি কি খাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, তবে পরিমিতভাবে। এগুলোতে পটাশিয়াম থাকে যা প্রেসার কমাতে সহায়ক, তবে কিডনি সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
চা-কফি কি প্রেসার বাড়ায়?
অতিরিক্ত ক্যাফেইন প্রেসার বাড়াতে পারে। দিনে ১ কাপ পর্যন্ত কফি নিরাপদ।
ডিম বা লাল মাংস কি খাওয়া যাবে?
ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন, কিন্তু লাল মাংস সপ্তাহে ১–২ বার সীমিত রাখুন।
ডিসক্লেইমার
এই আর্টিকেলটি সাধারণ স্বাস্থ্য–তথ্যভিত্তিক। ব্যক্তিগত চিকিৎসা বা প্রেসার–সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।










