ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৫ সালে বাংলাদেশে Samsung Galaxy S26 Ultra দাম এবং রিলিজ কবে জেনে নিন

SOFIYA BEGOM
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে samsung galaxy galaxy s26 ultra দাম

২০২৫ সালে Samsung Galaxy S26 Ultra দাম নিয়ে যে কৌতূহলটা সবচেয়ে বেশি, সেটা একদম স্বাভাবিক। বাংলাদেশে Samsung Galaxy S26 Ultra-এর দাম ২০২৫ সালে প্রায় ২,০০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে, তবে এটি ভ্যারিয়েন্ট (RAM/স্টোরেজ) এবং অফিশিয়াল বা আনঅফিশিয়াল মার্কেট অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে। এছাড়া, গ্লোবাল লঞ্চের কিছুদিন পরেই ফোনটি বাংলাদেশের বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্ধুরাও আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করে, “ভাই, এবার S26 Ultra কবে আসবে আর কত পড়তে পারে?” তাই আজকে একেবারে বন্ধু হিসেবে সবকিছু গুছিয়ে বলছি, যেন আপনি বাস্তবসম্মত ধারণা পান, আর কোনো অতিরঞ্জন না থাকে।

বাংলাদেশে samsung galaxy galaxy s26 ultra দাম

বাংলাদেশে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা দাম সাধারণত দুইভাবে দেখা যায়। একটা হলো অফিশিয়াল প্রাইস, আরেকটা হলো আনঅফিশিয়াল বা গ্রে মার্কেট প্রাইস। আমার অভিজ্ঞতায়, যারা অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি, নিশ্চিত সার্ভিস সাপোর্ট, আর ঝামেলামুক্ত ব্যবহারের কথা ভাবেন, তারা অফিশিয়াল দিকেই ঝোঁকেন। আর যারা “আগে হাতে পাই, একটু কম দামে পাই” ভাবেন, তারা অনেক সময় আনঅফিশিয়াল মার্কেট থেকে নেন।

অফিশিয়াল দামের ক্ষেত্রে প্রাইস সাধারণত নির্ভর করে স্টোরেজ ও র‍্যামের ওপর। যেমন ২৫৬ জিবি স্টোরেজের ভ্যারিয়েন্ট এক দাম, ৫১২ জিবিতে আরেক দাম, আর ১ টেরাবাইটে দামটা সবচেয়ে বেশি হয়। আপনি যদি শুধু নরমাল ফটো, সোশ্যাল মিডিয়া, আর দৈনন্দিন কাজের জন্য ফোন চান, তাহলে কম স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টেও কাজ চলে যায়। কিন্তু আপনি যদি 4K ভিডিও, হেভি গেম, বা প্রচুর ছবি-ভিডিও জমিয়ে রাখেন, তাহলে বড় স্টোরেজ নেওয়াই বাস্তবসম্মত।

আনঅফিশিয়াল দামে একটা সুবিধা থাকে, লঞ্চের শুরুতে তুলনামূলক কমে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এখানে একটা বাস্তব কথা বলি, সুযোগের সাথে ঝুঁকিও থাকে। ওয়ারেন্টি না থাকা, নেটওয়ার্ক ব্যান্ড ভিন্ন হওয়া, বা পরে সার্ভিসিং ঝামেলা—এগুলো মাথায় রাখতে হয়।

আমি একবার আগের সিরিজের একটি ফোন আনঅফিশিয়াল ভাবে নিয়েছিলাম, শুরুতে সাশ্রয়ী মনে হলেও পরে সার্ভিস না পেয়ে আসলে খরচই বেশি হয়েছিল। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনি ঠিক করুন, আপনি “সেভিংস” প্রাধান্য দেবেন নাকি “নিশ্চিন্ত ব্যবহার” প্রাধান্য দেবেন।

২০২৫ সালে Galaxy S26 Ultra রিলিজ কবে হতে পারে?

ফ্ল্যাগশিপ S সিরিজ সাধারণত বছরে নির্দিষ্ট সময় ঘিরে আসে, এটা একটা ধারার মতো। তাই ২০২৫ সালে গ্লোবাল লঞ্চ হওয়ার পর বাংলাদেশে একটু পরে অফিসিয়ালি আসার সম্ভাবনা থাকে। এই ব্যবধানটা কখনো কয়েক সপ্তাহ, কখনো এক-দুই মাসও হতে পারে।

প্রি-অর্ডার সাধারণত অফিসিয়াল সেল শুরুর আগেই শুরু হয়। যারা “প্রথম ব্যাচ” কিনতে চান, তারা প্রি-অর্ডার উইন্ডোর দিকে নজর রাখেন। এতে অনেক সময় গিফট, বোনাস, বা ব্যাংক ডিসকাউন্টও পাওয়া যায়। আমি দেখেছি, প্রি-অর্ডারে নিলে একদিকে আগে হাতে পাওয়া যায়, অন্যদিকে কিছু এক্সট্রা সুবিধা মেলে।

তবে আপনি যদি তাড়াহুড়া না করেন, তাহলে অফিসিয়াল সেল শুরু হওয়ার ২–৩ সপ্তাহ পর কিনলেও দাম ও অফার বেশি স্থিতিশীল থাকে। এটা এমন, যেমন ঈদের আগে শপিং করলে দাম একটু বাড়তি হতে পারে, কিন্তু ঈদের পরে একই পণ্য ভালো ডিলে পাওয়া যায়।

সম্ভাব্য ভ্যারিয়েন্ট ও স্টোরেজ অপশন

Samsung Ultra ফোনে সাধারণত একাধিক ভ্যারিয়েন্ট থাকে, কারণ সবার ব্যবহার এক রকম না। একজন হয়তো ক্যামেরা আর ডিসপ্লের জন্য নেন, আরেকজন নেন স্টোরেজ-হেভি কাজের জন্য। তাই ১২ জিবি বা ১৬ জিবি র‍্যাম, আর ২৫৬/৫১২ জিবি বা ১ টেরাবাইট স্টোরেজ—এই ধরনের ধরণ দেখা যেতে পারে। আপনি যদি গেমিং বা মাল্টিটাস্কিং করেন, বেশি র‍্যাম আপনাকে স্মুথ পারফরম্যান্স দেবে। আর আপনি যদি ফাইল, ভিডিও, আর ছবি বেশি রাখেন, বড় স্টোরেজ ভবিষ্যতে চাপ কমায়।

একটা ছোট উদাহরণ দিই। আপনি যদি প্রতিদিন ট্রাভেলের ভিডিও করেন, দুই বছরের মধ্যে আপনার স্টোরেজ ফাঁকা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। তখন বড় স্টোরেজ নেওয়ার সিদ্ধান্তটাই কাজে লাগে।

সম্ভাব্য স্পেসিফিকেশন হাইলাইটস যা আপনি আশা করতে পারেন

Ultra ফোন মানেই বড় ডিসপ্লে আর প্রিমিয়াম ফিল। সেই জায়গা থেকে আপনি শক্তিশালী AMOLED টাইপ ডিসপ্লে, উজ্জ্বলতা, আর হাই রিফ্রেশ রেটের মতো সুবিধা আশা করতে পারেন। পারফরম্যান্সের দিকে ফ্ল্যাগশিপ-গ্রেড প্রসেসর থাকবে ধরে নেওয়া যায়। এটা গেমিং, ভিডিও এডিটিং, আর হেভি অ্যাপ ব্যবহারে দারুণ কাজ দেবে।

ক্যামেরা অংশটা Ultra সিরিজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আপনি ভালো জুম, ভালো লো-লাইট পারফরম্যান্স, আর স্মার্ট AI ফিচারের উন্নতি আশা করতে পারেন। যারা কনসার্টে দূর থেকে ভিডিও করেন, বা রাতের শহরকে সুন্দর করে তুলতে চান, তাদের কাছে এটা বড় সুবিধা।

ব্যাটারি ও চার্জিং নিয়েও Ultra ফোন সাধারণত শক্তিশালী থাকে। আপনি সারাদিনের ব্যবহার, দ্রুত চার্জিং, আর স্ট্যাবল ব্যাকআপের আশা করতে পারেন।

সফটওয়্যার দিক দিয়ে One UI-এর নতুন ফিচার এবং দীর্ঘমেয়াদি আপডেট সাপোর্ট থাকার সম্ভাবনা থাকে। এটা এমন, যেমন আপনি একটা ভালো নোটবুক কিনলেন, যেটা বহু বছর ধরে আপনার কাজে থাকে।

S25 Ultra বনাম S26 Ultra – আপগ্রেড করা উচিত কি?

যদি আপনি এখনই S25 Ultra ব্যবহার করেন, তাহলে আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত একটু ভেবে নিতে হবে। কারণ ফ্ল্যাগশিপ ফোনে এক বছর পরপর আপগ্রেড সবার জন্য জরুরি নয়।

আপনি যদি ক্যামেরা উন্নতি, পারফরম্যান্স লাফ, বা নতুন কোনো বড় ফিচারের দরকার বোধ করেন, তাহলে আপগ্রেড যৌক্তিক।
কিন্তু আপনার ফোন যদি এখনও স্মুথ চলে, আর ব্যাটারি ভালো থাকে, তাহলে অপেক্ষা করাও স্মার্ট সিদ্ধান্ত।

আমি অনেক সময় বন্ধুদের বলি, “নতুনটা ভালো, কিন্তু আপনার বর্তমানটা যদি যথেষ্ট ভালো হয়, তাহলে তাড়াহুড়া কেন?”
এই মনোভাব আপনাকে অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে বাঁচাতে পারে।

কোথায় কিনবেন এবং কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

আপনি যদি অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি চান, তাহলে অথরাইজড স্টোর বা অফিসিয়াল শোরুমেই যাওয়া ভালো। এখানে দামের সাথে সঠিক সার্ভিস সাপোর্টও নিশ্চিত থাকে। অনলাইন থেকেও কেনা যায়, তবে সেলার ভেরিফাই করা জরুরি। রিভিউ দেখুন, রিটার্ন পলিসি দেখুন, আর ইনভয়েস আছে কি না নিশ্চিত হন।

গ্রে মার্কেট থেকে কিনলে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা, ফোনের IMEI মিল, এবং নেটওয়ার্ক ব্যান্ড চেক করা জরুরি। আপনি যদি এই চেকগুলো না করেন, পরে সমস্যা হলে ধরার জায়গা কমে যায়।

কার জন্য S26 Ultra সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে?

আপনি যদি মোবাইল ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাহলে Ultra আপনার জন্য দারুণ ম্যাচ। আপনি যদি গেমিং করেন বা হেভি কাজ করেন, তাহলে ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্স আপনাকে খুশি করবে। আপনি যদি বড় ডিসপ্লে আর প্রিমিয়াম ডিজাইন চান, এখানেও Ultra সিরিজ লিড করে।

কিন্তু আপনি যদি শুধু কল, চ্যাট, আর হালকা ইউজ করেন, তাহলে হয়তো অন্য প্রিমিয়াম-মিডরেঞ্জ ফোনেও আপনার কাজ হয়ে যাবে। সেটা বাজেটের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।

আমার সর্বশেষ কথা

২০২৫ সালে বাংলাদেশে Samsung  Galaxy S26 Ultra দাম ও রিলিজ নিয়ে আগেভাগে ধারণা রাখা সত্যিই কাজে দেয়।  এতে আপনি বাজেট ঠিক করতে পারেন, কোন ভ্যারিয়েন্ট নেবেন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, আর অফিসিয়াল-আনঅফিশিয়াল পথ বেছে নিতে পারেন। আমি সব সময় বলি, নতুন ফোন কেনা যেন আনন্দের হয়, স্ট্রেসের না। তাই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করুন, আর প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

২০২৫ সালে বাংলাদেশে Samsung Galaxy S26 Ultra দাম এবং রিলিজ কবে জেনে নিন

আপডেট সময় : ০৮:১২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

২০২৫ সালে Samsung Galaxy S26 Ultra দাম নিয়ে যে কৌতূহলটা সবচেয়ে বেশি, সেটা একদম স্বাভাবিক। বাংলাদেশে Samsung Galaxy S26 Ultra-এর দাম ২০২৫ সালে প্রায় ২,০০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে, তবে এটি ভ্যারিয়েন্ট (RAM/স্টোরেজ) এবং অফিশিয়াল বা আনঅফিশিয়াল মার্কেট অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে। এছাড়া, গ্লোবাল লঞ্চের কিছুদিন পরেই ফোনটি বাংলাদেশের বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্ধুরাও আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করে, “ভাই, এবার S26 Ultra কবে আসবে আর কত পড়তে পারে?” তাই আজকে একেবারে বন্ধু হিসেবে সবকিছু গুছিয়ে বলছি, যেন আপনি বাস্তবসম্মত ধারণা পান, আর কোনো অতিরঞ্জন না থাকে।

বাংলাদেশে samsung galaxy galaxy s26 ultra দাম

বাংলাদেশে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা দাম সাধারণত দুইভাবে দেখা যায়। একটা হলো অফিশিয়াল প্রাইস, আরেকটা হলো আনঅফিশিয়াল বা গ্রে মার্কেট প্রাইস। আমার অভিজ্ঞতায়, যারা অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি, নিশ্চিত সার্ভিস সাপোর্ট, আর ঝামেলামুক্ত ব্যবহারের কথা ভাবেন, তারা অফিশিয়াল দিকেই ঝোঁকেন। আর যারা “আগে হাতে পাই, একটু কম দামে পাই” ভাবেন, তারা অনেক সময় আনঅফিশিয়াল মার্কেট থেকে নেন।

অফিশিয়াল দামের ক্ষেত্রে প্রাইস সাধারণত নির্ভর করে স্টোরেজ ও র‍্যামের ওপর। যেমন ২৫৬ জিবি স্টোরেজের ভ্যারিয়েন্ট এক দাম, ৫১২ জিবিতে আরেক দাম, আর ১ টেরাবাইটে দামটা সবচেয়ে বেশি হয়। আপনি যদি শুধু নরমাল ফটো, সোশ্যাল মিডিয়া, আর দৈনন্দিন কাজের জন্য ফোন চান, তাহলে কম স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টেও কাজ চলে যায়। কিন্তু আপনি যদি 4K ভিডিও, হেভি গেম, বা প্রচুর ছবি-ভিডিও জমিয়ে রাখেন, তাহলে বড় স্টোরেজ নেওয়াই বাস্তবসম্মত।

আনঅফিশিয়াল দামে একটা সুবিধা থাকে, লঞ্চের শুরুতে তুলনামূলক কমে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এখানে একটা বাস্তব কথা বলি, সুযোগের সাথে ঝুঁকিও থাকে। ওয়ারেন্টি না থাকা, নেটওয়ার্ক ব্যান্ড ভিন্ন হওয়া, বা পরে সার্ভিসিং ঝামেলা—এগুলো মাথায় রাখতে হয়।

আমি একবার আগের সিরিজের একটি ফোন আনঅফিশিয়াল ভাবে নিয়েছিলাম, শুরুতে সাশ্রয়ী মনে হলেও পরে সার্ভিস না পেয়ে আসলে খরচই বেশি হয়েছিল। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনি ঠিক করুন, আপনি “সেভিংস” প্রাধান্য দেবেন নাকি “নিশ্চিন্ত ব্যবহার” প্রাধান্য দেবেন।

২০২৫ সালে Galaxy S26 Ultra রিলিজ কবে হতে পারে?

ফ্ল্যাগশিপ S সিরিজ সাধারণত বছরে নির্দিষ্ট সময় ঘিরে আসে, এটা একটা ধারার মতো। তাই ২০২৫ সালে গ্লোবাল লঞ্চ হওয়ার পর বাংলাদেশে একটু পরে অফিসিয়ালি আসার সম্ভাবনা থাকে। এই ব্যবধানটা কখনো কয়েক সপ্তাহ, কখনো এক-দুই মাসও হতে পারে।

প্রি-অর্ডার সাধারণত অফিসিয়াল সেল শুরুর আগেই শুরু হয়। যারা “প্রথম ব্যাচ” কিনতে চান, তারা প্রি-অর্ডার উইন্ডোর দিকে নজর রাখেন। এতে অনেক সময় গিফট, বোনাস, বা ব্যাংক ডিসকাউন্টও পাওয়া যায়। আমি দেখেছি, প্রি-অর্ডারে নিলে একদিকে আগে হাতে পাওয়া যায়, অন্যদিকে কিছু এক্সট্রা সুবিধা মেলে।

তবে আপনি যদি তাড়াহুড়া না করেন, তাহলে অফিসিয়াল সেল শুরু হওয়ার ২–৩ সপ্তাহ পর কিনলেও দাম ও অফার বেশি স্থিতিশীল থাকে। এটা এমন, যেমন ঈদের আগে শপিং করলে দাম একটু বাড়তি হতে পারে, কিন্তু ঈদের পরে একই পণ্য ভালো ডিলে পাওয়া যায়।

সম্ভাব্য ভ্যারিয়েন্ট ও স্টোরেজ অপশন

Samsung Ultra ফোনে সাধারণত একাধিক ভ্যারিয়েন্ট থাকে, কারণ সবার ব্যবহার এক রকম না। একজন হয়তো ক্যামেরা আর ডিসপ্লের জন্য নেন, আরেকজন নেন স্টোরেজ-হেভি কাজের জন্য। তাই ১২ জিবি বা ১৬ জিবি র‍্যাম, আর ২৫৬/৫১২ জিবি বা ১ টেরাবাইট স্টোরেজ—এই ধরনের ধরণ দেখা যেতে পারে। আপনি যদি গেমিং বা মাল্টিটাস্কিং করেন, বেশি র‍্যাম আপনাকে স্মুথ পারফরম্যান্স দেবে। আর আপনি যদি ফাইল, ভিডিও, আর ছবি বেশি রাখেন, বড় স্টোরেজ ভবিষ্যতে চাপ কমায়।

একটা ছোট উদাহরণ দিই। আপনি যদি প্রতিদিন ট্রাভেলের ভিডিও করেন, দুই বছরের মধ্যে আপনার স্টোরেজ ফাঁকা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। তখন বড় স্টোরেজ নেওয়ার সিদ্ধান্তটাই কাজে লাগে।

সম্ভাব্য স্পেসিফিকেশন হাইলাইটস যা আপনি আশা করতে পারেন

Ultra ফোন মানেই বড় ডিসপ্লে আর প্রিমিয়াম ফিল। সেই জায়গা থেকে আপনি শক্তিশালী AMOLED টাইপ ডিসপ্লে, উজ্জ্বলতা, আর হাই রিফ্রেশ রেটের মতো সুবিধা আশা করতে পারেন। পারফরম্যান্সের দিকে ফ্ল্যাগশিপ-গ্রেড প্রসেসর থাকবে ধরে নেওয়া যায়। এটা গেমিং, ভিডিও এডিটিং, আর হেভি অ্যাপ ব্যবহারে দারুণ কাজ দেবে।

ক্যামেরা অংশটা Ultra সিরিজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আপনি ভালো জুম, ভালো লো-লাইট পারফরম্যান্স, আর স্মার্ট AI ফিচারের উন্নতি আশা করতে পারেন। যারা কনসার্টে দূর থেকে ভিডিও করেন, বা রাতের শহরকে সুন্দর করে তুলতে চান, তাদের কাছে এটা বড় সুবিধা।

ব্যাটারি ও চার্জিং নিয়েও Ultra ফোন সাধারণত শক্তিশালী থাকে। আপনি সারাদিনের ব্যবহার, দ্রুত চার্জিং, আর স্ট্যাবল ব্যাকআপের আশা করতে পারেন।

সফটওয়্যার দিক দিয়ে One UI-এর নতুন ফিচার এবং দীর্ঘমেয়াদি আপডেট সাপোর্ট থাকার সম্ভাবনা থাকে। এটা এমন, যেমন আপনি একটা ভালো নোটবুক কিনলেন, যেটা বহু বছর ধরে আপনার কাজে থাকে।

S25 Ultra বনাম S26 Ultra – আপগ্রেড করা উচিত কি?

যদি আপনি এখনই S25 Ultra ব্যবহার করেন, তাহলে আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত একটু ভেবে নিতে হবে। কারণ ফ্ল্যাগশিপ ফোনে এক বছর পরপর আপগ্রেড সবার জন্য জরুরি নয়।

আপনি যদি ক্যামেরা উন্নতি, পারফরম্যান্স লাফ, বা নতুন কোনো বড় ফিচারের দরকার বোধ করেন, তাহলে আপগ্রেড যৌক্তিক।
কিন্তু আপনার ফোন যদি এখনও স্মুথ চলে, আর ব্যাটারি ভালো থাকে, তাহলে অপেক্ষা করাও স্মার্ট সিদ্ধান্ত।

আমি অনেক সময় বন্ধুদের বলি, “নতুনটা ভালো, কিন্তু আপনার বর্তমানটা যদি যথেষ্ট ভালো হয়, তাহলে তাড়াহুড়া কেন?”
এই মনোভাব আপনাকে অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে বাঁচাতে পারে।

কোথায় কিনবেন এবং কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

আপনি যদি অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি চান, তাহলে অথরাইজড স্টোর বা অফিসিয়াল শোরুমেই যাওয়া ভালো। এখানে দামের সাথে সঠিক সার্ভিস সাপোর্টও নিশ্চিত থাকে। অনলাইন থেকেও কেনা যায়, তবে সেলার ভেরিফাই করা জরুরি। রিভিউ দেখুন, রিটার্ন পলিসি দেখুন, আর ইনভয়েস আছে কি না নিশ্চিত হন।

গ্রে মার্কেট থেকে কিনলে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা, ফোনের IMEI মিল, এবং নেটওয়ার্ক ব্যান্ড চেক করা জরুরি। আপনি যদি এই চেকগুলো না করেন, পরে সমস্যা হলে ধরার জায়গা কমে যায়।

কার জন্য S26 Ultra সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে?

আপনি যদি মোবাইল ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাহলে Ultra আপনার জন্য দারুণ ম্যাচ। আপনি যদি গেমিং করেন বা হেভি কাজ করেন, তাহলে ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্স আপনাকে খুশি করবে। আপনি যদি বড় ডিসপ্লে আর প্রিমিয়াম ডিজাইন চান, এখানেও Ultra সিরিজ লিড করে।

কিন্তু আপনি যদি শুধু কল, চ্যাট, আর হালকা ইউজ করেন, তাহলে হয়তো অন্য প্রিমিয়াম-মিডরেঞ্জ ফোনেও আপনার কাজ হয়ে যাবে। সেটা বাজেটের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।

আমার সর্বশেষ কথা

২০২৫ সালে বাংলাদেশে Samsung  Galaxy S26 Ultra দাম ও রিলিজ নিয়ে আগেভাগে ধারণা রাখা সত্যিই কাজে দেয়।  এতে আপনি বাজেট ঠিক করতে পারেন, কোন ভ্যারিয়েন্ট নেবেন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, আর অফিসিয়াল-আনঅফিশিয়াল পথ বেছে নিতে পারেন। আমি সব সময় বলি, নতুন ফোন কেনা যেন আনন্দের হয়, স্ট্রেসের না। তাই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করুন, আর প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিন।